রাজবাড়ী ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বালিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রাজবাড়ীর কালুখালীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত বালিয়াকান্দিতে যথাযোগ্য মর্যাদায়  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কবিতা : চোখের আর্শিতে মোহ রাজবাড়ী জেলা যুবলীগের সভাপতি শওকত গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  ১০ম হতে ৯ম গ্রেড-এ উন্নীতকরণের দাবীতে রাজবাড়ী জেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের স্মারকলিপি প্রদান কবিতা : চোখ চাতুর্যে ডি. বি. পি বাজারে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে বাজার পরিচালনা কমিটির মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল

শিক্ষানীতি,শিক্ষক মর্যাদা ও জাতি গঠন

“শিক্ষা নীতি, শিক্ষক মর্যাদা ও জাতি গঠন”

শিক্ষকতাকে পৃথিবীর সকল পেশার মধ‍্যে উত্তম ও মহৎ পেশা বলে মনে করা হয়।

যে দেশের শিক্ষা নীতি যত উন্নত।শিক্ষা খাতে অর্থ ও মেধার বিনিয়োগ বেশি।

সেই দেশ সমাজ তত সমৃদ্ধ উন্নত।

আমাদের সমাজে প্রশাসক ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার

হতে মানুষ যত আগ্রহী শিক্ষক হতে ততটা আগ্রহী নয়।সামাজিক মর্যাদা, অর্থ, ক্ষমতা, গুরুত্ব সুবিধা ভোগ এর একটা বড় কারণ। যেটা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অপ্রতুল। যে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তৈরী হয় প্রশাসক, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার তারাই যদি থাকে সুবিধা বঞ্চিত তা বড়ই পরিতাপের বিষয়। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ধন যার মানতার। শুধু সম্মানের মুখের কথায়

চিড়ে ভেজে না। ক্ষুধাও মেটেনা।নিশ্চত হয়না বেচে থাকার মৌলিক অধিকার।পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায়, এমনকি প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন ভাতা অনেক কমা।রাষ্ট্রীয় ভাবে শিক্ষকদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শিক্ষায় বাড়বে মেধাবীদের আগ্রহ। বাড়বে শিক্ষকদের

সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা। জাতি হিসেবে আমারও হব সমৃদ্ধ ও গর্বিত।

জ্ঞান বিতরণ অর্জনের মাধ‍্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়কেই আলোকিত করে। সক্রেটিস অজ্ঞানতাকে পাপ গন‍্য করেছেন। ইসলামে জ্ঞান অর্জন ফরজ ঘোষনা করেছে।”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”কবি – কাজী কাদের নেওয়াজ। আমাদের সমাজের শিক্ষগুরু

যোগ্যমর্যাদা,সম্মান পেয়ে কবে এমন তুষ্টবাণী উচ্চারণ করবে?

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতে যে শিক্ষা নীতি প্রবর্তন করেছিল,তা মেকলে শিক্ষা নীতি নামে খ‍্যাত। ব্রিটিশ থেকে অত সংখ্যক মানুষ এনে ভারত শাষন সম্ভব না। তাই পরিকল্পনা মোতাবেক ভারতের পাঠশালা ভিত্তিক দশ লক্ষ‍্য পাঠশালা কেন্দ্র বন্ধহলো।

যেখানে শিক্ষা দেয়া হত নৈতিক মানবিক মুল‍্যবোধ।প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষায় তৈরী হত অহিংস, সাম‍্যবাদি,সমাজ।

যে সমাজ ছিল স্বয়ংসম্পন্ন,

স্বাধীন ও সমৃদ্ধ।যে মানুষের ঐক্যের বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল শাষন শোষণ।তাই এখানেই তৈরী করতে হবে ব্রিটিশ চেতনার কিছুমানুষ।দেয়া হল এক নতুন শিক্ষা নীতি।”যে শিক্ষায় রক্তে বর্ণে কিছু ভারতীয়রা চেতনা মনে মননে হবে বৃট্রিশদের মত।

বৃট্রিশদের শাষনে তারা সহযোগী হবে।এভাবে একটা শিক্ষা নীতি আমাদের

দুই শত বছর অবনত রেখেছে। তাই শিক্ষা নীতির প্রভাব জাতির জন‍্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা যেখানে শ্রেণি তৈরী করে। তৈরী করে মত বিরোধ। তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।যে শিক্ষা অভিন্ন চেতনার মানুষ তৈরী করবে। ভিন্ন চেতনা বিভাজন শ্রেণি তৈরী করবে না।যে শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞানভিত্তিক বিজ্ঞানমনস্ক,

কুসংস্কার, ধর্মান্ধতামুক্ত, যৌক্তিক,মানবিক মানুষ গঠনে সহায়ক হবে । শিক্ষা হবে কর্মমুখি সৃষ্টিশীল উৎপাদন সহায়ক। শিক্ষা হবে না বেকার তৈরির কারখানা।এমন শিক্ষা সময়ের দাবী।শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে আলোর পথে প্রকৃত মুক্তির সন্ধান দিতে। ধর্মে বর্ণে রঙে ভিন্ন মানুষকে এক মুখি এক চেতনায় ঐক্যবদ্ধ সমাজ  তৈরীতে শিক্ষা, শিক্ষা নীতি ও শিক্ষকের ভুমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।  শিক্ষক দিবশে জাতি হিসাবে এমন শিক্ষা ব‍্যবস্থা সবার কাম‍্য।শিক্ষকের মর্যাদা দিতে আল্লামা ইকবাল ব্রিটিশ রাজের স‍্যার উপাধি নেয়ার পূর্বে তার শিক্ষক মৌলভী হাসানকে সম্মানিত করার শর্ত দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ রাজের  তা পালন করতে  হয়েছিল।নভেল বিজয়ী প্রফেসর আঃ সালাম তার শিক্ষক অনিলন্দ গাঙ্গুলীকে সম্মান জানিয়ে দুজনই ইতিহাসের অংশহয়েছেন। শিক্ষক সম্মানের পাত্র। রাষ্ট্র সমাজ সর্বমহল থেকেই  শিক্ষকের মর্যাদা চোখে দেখা উচিত।

শিক্ষক দিবশে সকল শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা।

 মোঃ আতাউর রহমান।

লেখক ও কলামিষ্ট।

———-

Tag :

বালিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন

শিক্ষানীতি,শিক্ষক মর্যাদা ও জাতি গঠন

প্রকাশিত : ০৬:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২

“শিক্ষা নীতি, শিক্ষক মর্যাদা ও জাতি গঠন”

শিক্ষকতাকে পৃথিবীর সকল পেশার মধ‍্যে উত্তম ও মহৎ পেশা বলে মনে করা হয়।

যে দেশের শিক্ষা নীতি যত উন্নত।শিক্ষা খাতে অর্থ ও মেধার বিনিয়োগ বেশি।

সেই দেশ সমাজ তত সমৃদ্ধ উন্নত।

আমাদের সমাজে প্রশাসক ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার

হতে মানুষ যত আগ্রহী শিক্ষক হতে ততটা আগ্রহী নয়।সামাজিক মর্যাদা, অর্থ, ক্ষমতা, গুরুত্ব সুবিধা ভোগ এর একটা বড় কারণ। যেটা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অপ্রতুল। যে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তৈরী হয় প্রশাসক, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার তারাই যদি থাকে সুবিধা বঞ্চিত তা বড়ই পরিতাপের বিষয়। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ধন যার মানতার। শুধু সম্মানের মুখের কথায়

চিড়ে ভেজে না। ক্ষুধাও মেটেনা।নিশ্চত হয়না বেচে থাকার মৌলিক অধিকার।পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায়, এমনকি প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন ভাতা অনেক কমা।রাষ্ট্রীয় ভাবে শিক্ষকদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শিক্ষায় বাড়বে মেধাবীদের আগ্রহ। বাড়বে শিক্ষকদের

সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা। জাতি হিসেবে আমারও হব সমৃদ্ধ ও গর্বিত।

জ্ঞান বিতরণ অর্জনের মাধ‍্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়কেই আলোকিত করে। সক্রেটিস অজ্ঞানতাকে পাপ গন‍্য করেছেন। ইসলামে জ্ঞান অর্জন ফরজ ঘোষনা করেছে।”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”কবি – কাজী কাদের নেওয়াজ। আমাদের সমাজের শিক্ষগুরু

যোগ্যমর্যাদা,সম্মান পেয়ে কবে এমন তুষ্টবাণী উচ্চারণ করবে?

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতে যে শিক্ষা নীতি প্রবর্তন করেছিল,তা মেকলে শিক্ষা নীতি নামে খ‍্যাত। ব্রিটিশ থেকে অত সংখ্যক মানুষ এনে ভারত শাষন সম্ভব না। তাই পরিকল্পনা মোতাবেক ভারতের পাঠশালা ভিত্তিক দশ লক্ষ‍্য পাঠশালা কেন্দ্র বন্ধহলো।

যেখানে শিক্ষা দেয়া হত নৈতিক মানবিক মুল‍্যবোধ।প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষায় তৈরী হত অহিংস, সাম‍্যবাদি,সমাজ।

যে সমাজ ছিল স্বয়ংসম্পন্ন,

স্বাধীন ও সমৃদ্ধ।যে মানুষের ঐক্যের বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল শাষন শোষণ।তাই এখানেই তৈরী করতে হবে ব্রিটিশ চেতনার কিছুমানুষ।দেয়া হল এক নতুন শিক্ষা নীতি।”যে শিক্ষায় রক্তে বর্ণে কিছু ভারতীয়রা চেতনা মনে মননে হবে বৃট্রিশদের মত।

বৃট্রিশদের শাষনে তারা সহযোগী হবে।এভাবে একটা শিক্ষা নীতি আমাদের

দুই শত বছর অবনত রেখেছে। তাই শিক্ষা নীতির প্রভাব জাতির জন‍্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা যেখানে শ্রেণি তৈরী করে। তৈরী করে মত বিরোধ। তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।যে শিক্ষা অভিন্ন চেতনার মানুষ তৈরী করবে। ভিন্ন চেতনা বিভাজন শ্রেণি তৈরী করবে না।যে শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞানভিত্তিক বিজ্ঞানমনস্ক,

কুসংস্কার, ধর্মান্ধতামুক্ত, যৌক্তিক,মানবিক মানুষ গঠনে সহায়ক হবে । শিক্ষা হবে কর্মমুখি সৃষ্টিশীল উৎপাদন সহায়ক। শিক্ষা হবে না বেকার তৈরির কারখানা।এমন শিক্ষা সময়ের দাবী।শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে আলোর পথে প্রকৃত মুক্তির সন্ধান দিতে। ধর্মে বর্ণে রঙে ভিন্ন মানুষকে এক মুখি এক চেতনায় ঐক্যবদ্ধ সমাজ  তৈরীতে শিক্ষা, শিক্ষা নীতি ও শিক্ষকের ভুমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।  শিক্ষক দিবশে জাতি হিসাবে এমন শিক্ষা ব‍্যবস্থা সবার কাম‍্য।শিক্ষকের মর্যাদা দিতে আল্লামা ইকবাল ব্রিটিশ রাজের স‍্যার উপাধি নেয়ার পূর্বে তার শিক্ষক মৌলভী হাসানকে সম্মানিত করার শর্ত দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ রাজের  তা পালন করতে  হয়েছিল।নভেল বিজয়ী প্রফেসর আঃ সালাম তার শিক্ষক অনিলন্দ গাঙ্গুলীকে সম্মান জানিয়ে দুজনই ইতিহাসের অংশহয়েছেন। শিক্ষক সম্মানের পাত্র। রাষ্ট্র সমাজ সর্বমহল থেকেই  শিক্ষকের মর্যাদা চোখে দেখা উচিত।

শিক্ষক দিবশে সকল শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা।

 মোঃ আতাউর রহমান।

লেখক ও কলামিষ্ট।

———-