রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় রুনা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূর পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পাংশা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ মিলন শেখ (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে।
রোববার (২০ আগাস্ট) ভোর রাতে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের বসতবাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গৃহবধূ রুনা খাতুন কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী।
আটক মিলন শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।
নিহত গৃহবধূর চাচা শ্বশুর আতাহার মন্ডল বলেন, আমার নাতি (নিহত গৃহবধূর কন্যা) উম্মে সিনহা (১০) আমাদেরকে বলে গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে সে দেখে তার দেড় বছর বয়সী ছোট ভাই কান্না করছে। তার মা ঘরে নেই। বারান্দায় এসে দেখে প্রতিবেশী মিলন শেখকে। সে তাকে জিজ্ঞাসা করে, আমার মা কোথায়? মিলন শেখ উত্তর দেয়, তোমার মা আমাদের বাড়িতে গিয়েছে। মাকে ডাকতে গেলে মিলন শেখ তার মুখ চেপে ধরে টয়লেটের মধ্যে নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পরে টয়লেটের দরজা খুলে দিয়ে পালিয়ে যায় মিলন। পরে সে দেখে, দড়ি দিয়ে পা বাঁধা অবস্থায় তার মা বাড়ির উঠানে পড়ে আছে। মায়ের কোনো সারা-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে সে। প্রতিবেশীরা এসে দেখে, তার মা মৃত অবস্থায় পরে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রতিবেশী মিলন শেখের স্ত্রী চম্পা খাতুন জানান, প্রতিদিনের মতো আমি আর আমার স্বামী একসঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ি। পরে ও কোথাও গিয়েছে কিনা তা আমি জানি না। পুলিশ সকালে আমার স্বামীকে নিয়ে গেছে।
প্রতিবেশীরা জানান, মিলন শেখ কোনো প্রকার কাজ করে না। তার স্ত্রী চম্পা খাতুন মানুষের বাড়ি কাজ করে সংসার চালায়।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা জানান, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা থানায় এসেছেন। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করা হবে। এ ঘটনায় মিলন শেখ নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।