রাজবাড়ী ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বালিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রাজবাড়ীর কালুখালীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত বালিয়াকান্দিতে যথাযোগ্য মর্যাদায়  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কবিতা : চোখের আর্শিতে মোহ রাজবাড়ী জেলা যুবলীগের সভাপতি শওকত গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  ১০ম হতে ৯ম গ্রেড-এ উন্নীতকরণের দাবীতে রাজবাড়ী জেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের স্মারকলিপি প্রদান কবিতা : চোখ চাতুর্যে ডি. বি. পি বাজারে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে বাজার পরিচালনা কমিটির মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল

রাজবাড়ী আদর্শ ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান রোগী এখন মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে রাজধানী ঢাকায় ।

স্টাফ রিপোর্টার

রাজবাড়ীতে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রোগীর কিডনী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাজবাড়ী শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত আদর্শ ক্লিনিকের গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শারমিন আক্তার সুমির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
ভূক্তভোগী নারী রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের জুবাইদা মীরার (২৩) স্বামী মোঃ সাব্বির মোল্লা ও তার স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।
গত মঙ্গলবার বিকালে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে উপস্থিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিমাংসার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে তা পন্ড হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানে পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতি টের পেয়ে গাঢাকা দেয় ওই ক্লিনিকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
বর্তমানে ওই সিজারিয়ান রোগী রাজধানী ঢাকার পপুলার হাসপাতালের কিডনী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগীর স্বামী মোঃ সাব্বির মোল্লা বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার স্ত্রীকে সিজার করার জন্য রাজবাড়ী শহরের আদর্শ ক্লিনিকে ভর্তি করান। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারমীন আক্তার সুমি তার স্ত্রী’র সিজার করেন। সিজারের সময় এ্যানেশথেশিয়া করেন ডাঃ একরামুল করিম উল্লাস। ওটি শেষ করার ৪৫ মিনিট পর তার স্ত্রী জুবাইদা মীরাকে বেডে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রীর খিঁচুনি উঠতে শুরু করে এবং জ্বর এসে মুখ ফুলে যায়। সিজারের পর থেকে তার স্ত্রীর ইউরিন ডিসচার্জ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি তখনি নার্সকে জানান। তারা বলে সিজার করলে এমনটা হয়ে থাকে। তারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। পরের দিন সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার স্ত্রীর প্রস্রাব হয় না। ফলে তার স্ত্রীর শরীর ফুলে যায় ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডাঃ শারমিন আক্তার সুমি চেম্বারে আসলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। সে তার স্ত্রীকে দেখে কিছু ঔষুধ দেন। সেই ঔষুধ খেয়ে কোন কাজ না হলে পরে পাশের ক্লিনিক থেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইকবালকে এনে দেখান। সে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ দেখে তাৎক্ষণিক ঢাকায় এ্যাপোলো হসপিটালে রেফার্ড করার জন্য ডাঃ সুমিকে পরামর্শ দেন। এরপর তাৎক্ষণিক ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে পপুলার হসপিটালে আনা হয়। এখানে ৪দিন আইসিইউ’তে ও ২দিন সিসিইউতে রেখে ৯ বার ডায়ালাইসিসি দেওয়ার পর রোগী কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
মোঃ সাব্বির মোল্লা বলেন, রোগীর পরীক্ষায় পপুলার হসপিটালের কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেছেন সিজার করতে গিয়ে অবহেলার কারণে কিডনীতে খোঁচা লাগায় কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। কিডনীর অনুগুলো মারা গেছে। এ জন্য ইউরিন ডিসচার্জ হচ্ছে না। আমাদের স্বজনরা আজ এ বিষয় নিয়ে ডাঃ শারমিন আক্তার সুমির সাথে কথা বলতে গেলে সে খারাপ ব্যবহার করে এবং বলে যা পারেন করেন।
তিনি আরও বলেন, ডাক্তার বলেছে তার স্ত্রীর সুস্থ হতে আরও ৬-৭ সপ্তাহ সময় লাগবে। অনেক টাকার প্রয়োজন। এরমধ্যে অনেক টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এবিষয়ে ডাঃ সুমির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ঘটনার বিষয়ে গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারমিন আক্তার সুমির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ডাঃ মোঃ মিজানুল হক বলেন, রোগীকে গত ৩১ ডিসেম্বর সিজার করা হয়েছিল। সিজার করার পর বাচ্চা সুস্থ ছিল। বাচ্চার মা ও সুস্থ ছিল। বাচ্চার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

Tag :

বালিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন

রাজবাড়ী আদর্শ ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান রোগী এখন মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে রাজধানী ঢাকায় ।

প্রকাশিত : ০৬:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার

রাজবাড়ীতে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রোগীর কিডনী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাজবাড়ী শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত আদর্শ ক্লিনিকের গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শারমিন আক্তার সুমির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
ভূক্তভোগী নারী রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের জুবাইদা মীরার (২৩) স্বামী মোঃ সাব্বির মোল্লা ও তার স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।
গত মঙ্গলবার বিকালে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে উপস্থিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিমাংসার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে তা পন্ড হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানে পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতি টের পেয়ে গাঢাকা দেয় ওই ক্লিনিকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
বর্তমানে ওই সিজারিয়ান রোগী রাজধানী ঢাকার পপুলার হাসপাতালের কিডনী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগীর স্বামী মোঃ সাব্বির মোল্লা বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার স্ত্রীকে সিজার করার জন্য রাজবাড়ী শহরের আদর্শ ক্লিনিকে ভর্তি করান। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারমীন আক্তার সুমি তার স্ত্রী’র সিজার করেন। সিজারের সময় এ্যানেশথেশিয়া করেন ডাঃ একরামুল করিম উল্লাস। ওটি শেষ করার ৪৫ মিনিট পর তার স্ত্রী জুবাইদা মীরাকে বেডে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রীর খিঁচুনি উঠতে শুরু করে এবং জ্বর এসে মুখ ফুলে যায়। সিজারের পর থেকে তার স্ত্রীর ইউরিন ডিসচার্জ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি তখনি নার্সকে জানান। তারা বলে সিজার করলে এমনটা হয়ে থাকে। তারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। পরের দিন সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার স্ত্রীর প্রস্রাব হয় না। ফলে তার স্ত্রীর শরীর ফুলে যায় ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডাঃ শারমিন আক্তার সুমি চেম্বারে আসলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। সে তার স্ত্রীকে দেখে কিছু ঔষুধ দেন। সেই ঔষুধ খেয়ে কোন কাজ না হলে পরে পাশের ক্লিনিক থেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইকবালকে এনে দেখান। সে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ দেখে তাৎক্ষণিক ঢাকায় এ্যাপোলো হসপিটালে রেফার্ড করার জন্য ডাঃ সুমিকে পরামর্শ দেন। এরপর তাৎক্ষণিক ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে পপুলার হসপিটালে আনা হয়। এখানে ৪দিন আইসিইউ’তে ও ২দিন সিসিইউতে রেখে ৯ বার ডায়ালাইসিসি দেওয়ার পর রোগী কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
মোঃ সাব্বির মোল্লা বলেন, রোগীর পরীক্ষায় পপুলার হসপিটালের কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেছেন সিজার করতে গিয়ে অবহেলার কারণে কিডনীতে খোঁচা লাগায় কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। কিডনীর অনুগুলো মারা গেছে। এ জন্য ইউরিন ডিসচার্জ হচ্ছে না। আমাদের স্বজনরা আজ এ বিষয় নিয়ে ডাঃ শারমিন আক্তার সুমির সাথে কথা বলতে গেলে সে খারাপ ব্যবহার করে এবং বলে যা পারেন করেন।
তিনি আরও বলেন, ডাক্তার বলেছে তার স্ত্রীর সুস্থ হতে আরও ৬-৭ সপ্তাহ সময় লাগবে। অনেক টাকার প্রয়োজন। এরমধ্যে অনেক টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এবিষয়ে ডাঃ সুমির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ঘটনার বিষয়ে গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারমিন আক্তার সুমির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ডাঃ মোঃ মিজানুল হক বলেন, রোগীকে গত ৩১ ডিসেম্বর সিজার করা হয়েছিল। সিজার করার পর বাচ্চা সুস্থ ছিল। বাচ্চার মা ও সুস্থ ছিল। বাচ্চার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।